কুড়িগ্রাম, ১লা অক্টোবর ২০২৬: গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সোমবার) কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুড়িকৃবি) কৃষি অনুষদের লেভেল-২, সেমিস্টার-১-এর শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বীজ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (ব্যবহারিক)’ কোর্সের অংশ হিসেবে এক শিক্ষামূলক মাঠ পরিদর্শন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শ্রেণিকক্ষে অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞানকে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যেই এই পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) কুড়িগ্রামস্থ আলুবীজ উৎপাদন জোন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে বিএডিসি আলুবীজ উৎপাদন জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক, টিসি) জনাব মোঃ মিজানুর রহমান শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান। তিনি বীজ প্রযুক্তির মৌলিক তাত্ত্বিক দিক বীজের শ্রেণিবিন্যাস, সার্টিফাইড ট্যাগের রঙের তাৎপর্য এবং মাননিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিএডিসির বিভিন্ন কার্যকরী বিভাগ, বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রিত আধুনিক সংরক্ষণাগার, ডিলারদের মাধ্যমে বিপণন ব্যবস্থা এবং চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের পরিচালিত কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।
এ সময় উৎপাদিত আলুবীজ কীভাবে আধুনিক ও নিখুঁত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাছাই স্টোরিং, গ্রেডিং এবং হিমাগারে সংরক্ষণের উপযোগী করা হয়, সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রায়োগিক জ্ঞান অর্জন করেন।
একই কর্মসূচিতে বিএডিসি ডাল ও তেলবীজ উৎপাদন জোনের সিনিয়র সহকারী পরিচালক জনাব আব্দুল জলিল শিক্ষার্থীদের বীজের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখার জন্য প্রয়োজনীয় আদর্শ তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং বস্তাজাতকরণে ধারণক্ষমতার গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন।
কৃষি শিক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের মাঠপর্যায়ের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উক্ত ফিল্ড ট্রিপের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “ফিল্ড ট্রিপ কেবল ভ্রমণের কোনো আয়োজন নয়; বরং এটি নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা বিকাশ এবং বাস্তবসম্মত সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের পথ খোঁজার এক অনন্য সুযোগ। এই সফরের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গবেষণা ও পেশাগত কর্মজীবনে অসামান্য ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি। শিক্ষক ও নির্দেশকদের সঠিক পথপ্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে আসছে এবং আগামী দিনগুলোতেও তা অব্যাহত থাকবে।