কুড়িগ্রাম, ৬আগস্ট, ২০২৬: কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুড়িকৃবি) বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা, দোয়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গত বুধবার (৫ আগস্ট, ২০২৬) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে। সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, র্যালি ও অস্থায়ী বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহ. রাশেদুল ইসলাম এবং নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোছা. নূর মহল আখতার বানু।
পরে সেমিনার রুমে প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোছা. নূর মহল আখতার বানু বলেন, "আমরা বায়ান্ন বা একাত্তর দেখিনি, কিন্তু চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেখেছি। রক্তস্নাত এই ইতিহাস কোনোভাবেই ভোলা যাবে না। গত ১৭ বছর বিভিন্ন স্বৈরাচার বিরোধী প্রোগ্রামে, পুরো জুলাই আন্দোলনে এবং গত ৪ আগস্ট ২০২৪ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বর্তমান উপাচার্য মহোদয় প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম (তৎকালীন জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন সাদাদলের সাধারণ সম্পাদক) ও প্রফেসর এফএম আমিনুজ্জামান (তৎকালীন সভাপতি, সাদাদল) এদের নেতৃত্বে একসাথে গুলির মুখে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিজেদের রাজপথের লড়াইয়ের কথাও তিনি স্মরণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহ. রাশেদুল ইসলাম শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ , শিশু রিয়া ও সকল বীর শহীদকে স্মরণ করে বলেন, "এই অভ্যুত্থান দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসন, গুম-খুন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ফসল।" তিনি উল্লেখ করেন, স্বৈরাচারী সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে রেখে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল। এসব অন্যায় অবিচারের ঘৃণা ও ক্ষোভ ছাত্র-জনতার হৃদয়ে আন্দোলনের দানা বেধেছিল, যার বিস্ফোরণ ঘটেছিল জুলাই আন্দোলনে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর ক্যাবিনেট আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
এ সময় 'এশিয়া পোর্টাল নিউজ'-এ ৪০৪ জন শিক্ষকের মধ্যে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষকের নামে মিথ্যা সংবাদ প্রচারসহ চলমান ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান উপাচার্য। বাস্তবে ওই নামের কোন শিক্ষক কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্যকে সাথে নিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানের মাঝে দুপুরের খাবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। সবশেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া, মোনাজাত এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।