কুড়িগ্রাম, ২৬ মার্চ ২০২৬: যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুড়িকৃবি) মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞপনে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বর্ণাঢ্য র্যালি এবং আলোচনা সভাসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকাল ৯:০০ ঘটিকায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৯:৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এরপর সকাল ১০:০০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে স্বাধীনতা সংগ্রামের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য নিয়ে একটি আলোচনা সভা প্রভাষক জনাব মো: খালিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিষয়ক উপদেষ্টা ও কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো: আব্দুল আলীম এবং উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাত্রির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “২৫শে মার্চের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর জাতি যখন দিশেহারা, ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকেই তৎকালীন সেনাবাহিনীর একজন মেজর হয়েও নিজের ও পরিবারের মায়া ত্যাগ করে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাঁর সেই বীরত্বপূর্ণ আহ্বানে উদ্বুদ্ধ হয়েই সর্বস্তরের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।”
উপাচার্য মহোদয় আরো বলেন, “স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল জাতি এখনো পুরোপুরি পায়নি। গত ১৭ বছর দেশে একটি ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম ছিল, যেখানে মানুষের বাকস্বাধীনতা ছিল না এবং সমালোচনা করলেই গুম-খুন অথবা নির্যাতনের শিকার হতে হতো। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ সেই দুঃশাসন থেকে মুক্ত হয়েছে।” তিনি ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর আন্দোলনের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গের একমাত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের এই অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে হবে, নতুন প্রযুক্তি কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। এতে করে কৃষিতে আমরা প্রকৃত স্বাধীন বাংলাদেশের সুফল পেতে থাকবো এবং বাংলাদেশের মানুষকে খাদ্যের জন্য কারো মুখাপেক্ষী হতে হবে না।” এ জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে তিনি ছুটির দিনেও কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্বুদ্ধ করেন। এ বিষয়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর দিন-রাত নিরলস পরিশ্রমের কথা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে দায়িত্বপালন এবং সময়মতো অফিসে আসার বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দেন। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে শনিবার ক্লাশ-পরীক্ষাসহ অফিসের কার্যক্রম চলমান আছে। এ জন্য তিনি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো: আব্দুল আলীম স্বাধীনতার সংগ্রামের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের আরো মনোযোগী হয়ে লেখা-পড়া করতে বলেন। তিনি কুড়িকৃবি-কে একটি গবেষণানির্ভর, স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।