Here you will see the details of a News or Event

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কৃষি রসায়ন এবং কৃষি-আবহাওয়া বিজ্ঞান কোর্সের মাঠ পরিদর্শন।

কুড়িগ্রাম১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞানের পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেভেল ১, সেমিস্টার ২ এবং লেভেল ২, সেমিস্টার ১-এর শিক্ষার্থীদের জন্য গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) লালমনিরহাট জেলার গুরুত্বপূর্ণ দুটি কৃষি ও পরিবেশগত স্থানসোমা চা বাগান এবং তিস্তা ব্যারেজ-এ এক শিক্ষামূলক মাঠ পরিদর্শন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উক্ত পরিদর্শনে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহ: রাশেদুল ইসলাম এবং মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোছাঃ নুর মহল আখতার বানু।

কৃষি-শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চা চাষ, চা পাতা সংগ্রহ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া, গুণমান নিয়ন্ত্রণ ও রাসায়নিক নিরাপত্তার ব্যবহারিক ধারণা লাভ করেন। এছাড়া শিক্ষার্থীরা সমতল ভূমিতে চা চাষের সম্ভাবনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারনা লাভ করেন।

কৃষি আবহাওয়া ও বিজ্ঞান বিষয়ের অংশ হিসাবে শিক্ষার্থীরা তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করেন। এখানে তারা সেচ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তিস্তা ব্যারেজের কার্যকারিতা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। খরা মৌসুমে উত্তরবঙ্গের কৃষি জমিতে নিয়মিত সেচ সরবরাহ নিশ্চিতকরণে ক্যানাল এবং গেট নিয়ন্ত্রণের ভূ-উপগ্রহিক ও হাইড্রোলিক ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রধান সেচ খালের মাধ্যমে পানির অপচয় রোধ করে শস্যের ফলন বাড়ানোর ব্যবহারিক কৌশল সম্পর্কে জান্তে পারেন। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানির চাপ নিরসনে স্লুইস গেট পরিচালনা এবং ফ্ল্যাশ ফ্লাড (আকস্মিক বন্যা) নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজের ভূমিকা পর্যালোচনা করেন। তিস্তা অববাহিকার নদীভাঙন রোধে ব্যবহৃত গাইড বাঁধ ও স্পারের কৌশলগত অবস্থান পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে মাননীয় উপাচার্য মহোদয় শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ের নানা প্রশ্ন ও প্রয়োগভিত্তিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের স্থানীয় কৃষিশিল্প (যেমন সমতলের চা চাষ) এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ (যেমন তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা) সামলাতে ব্যবহারিক শিখন অত্যন্ত জরুরি। উপাচার্য মহোদয়ের এই গঠনমূলক পরামর্শ এবং উৎসাহব্যঞ্জক উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মনে গভীর আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে, যা তাদের ব্যবহারিক শিক্ষায় আরও বেশি মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে।

পরিদর্শনকালে মাননীয় উপ-উপাচার্য মহোদয় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, কৃষি গবেষণাকে দেশের স্থানীয় প্রযুক্তিগত প্রয়োজন ও জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জের সাথে যুক্ত করতে হবে। এছাড়া সোমা চা বাগানের প্রক্রিয়াকরণ এবং তিস্তা ব্যারেজের ওয়াটার শেড ম্যানেজমেন্ট গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে এ অভিজ্ঞতা তাদের ভবিষ্যৎ গবেষণার কাজে লাগাতে উদ্ভুদ্ধ করেন ।

এই মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একদিকে কৃষি রসায়নের শিল্পভিত্তিক প্রয়োগ (চা শিল্প) এবং অন্যদিকে কৃষি-আবহাওয়া ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যা ভবিষ্যতে দক্ষ কৃষিবিদ গঠনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।