কুড়িগ্রাম, ১৯ মে ২০২৬: গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শিক্ষা সফরের (ফিল্ড ট্রিপ) আয়োজন করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করতে এই ফিল্ড ট্রিপটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। সফরকালে শিক্ষার্থীরা মোট ৪টি স্থান ভ্রমণ করেন। স্থানগুলো হলো- কুড়িগ্রামের রাজারহাটে অবস্থিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার, রংপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), রংপুরের বুড়িরহাটে অবস্থিত হর্টিকালচার সেন্টার ও আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এবং মহিপুর ব্রিজ।
শিক্ষার্থীরা সকাল ৯:৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস থেকে যাত্রা শুরু করে সকাল ১০:০০ টায় রাজারহাটে অবস্থিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে পৌঁছান। সেখানে তারা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরিদর্শন করেন এবং নিজ নিজ অ্যাসাইনমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর তারা রংপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) সরেজমিন গবেষণা বিভাগ গমন করেন। সেখানে বারি কর্তৃক উদ্ভাবিত বিভিন্ন ফসলের জাত, সেগুলোর চাষাবাদ পদ্ধতি এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বারির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ একরামুল হকের কাছ থেকে নতুন উদ্ভাবিত বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জন করেন।
বারি পরিদর্শন শেষে শিক্ষার্থীরা বুড়িরহাটে অবস্থিত হর্টিকালচার সেন্টার ও আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে যান। আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: হারুন-অর-রশীদ তাদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন উদ্ভিদ ও কৃষি প্রযুক্তিসহ জৈব সার, বালাইনাশক ও ছত্রাকনাশকমুক্ত অর্গানিক কৃষির নানা দিক দেখান। বিশেষ করে বন্ধু পোকা (বেনিফিসিয়াল ইনসেক্ট) যেমন: Trichogramma-এর মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকা-মাকড় দমন পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের শেখান। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা উদ্যান ফসলের বিভিন্ন রোগ, বিশেষ করে নারিকেল ও পেয়ারা গাছের ‘Rugose Spiraling Whitefly’ রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। সবশেষে শিক্ষার্থীরা মহিপুর তিস্তা ব্রিজে গমন করেন এবং ওই অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবেশ ও প্ল্যান্টেশন ক্রপস সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
উক্ত ফিল্ড ট্রিপের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহ: রাশেদুল ইসলাম আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু বই-নির্ভর হোক, তা আমরা চাই না; বরং তারা সামাজিকীকরণের মাধ্যমে বইয়ের বাইরের যে পৃথিবী আছে, সে সম্পর্কে জানুক। বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষি-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নতুন কী কী বিষয়ে গবেষণা হচ্ছে, তা তাদের জানা প্রয়োজন। তাহলেই তারা নিজেদের দক্ষ কৃষিবিদ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে কুড়িকৃবি প্রশাসন সব ধরণের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে আসছে এবং আগামী দিনগুলোতেও তা অব্যাহত থাকবে।”
শিক্ষার্থীরা ফিল্ড ট্রিপটি অত্যন্ত আনন্দের সাথে উপভোগ করেন। অনুভূতি ব্যক্ত করে তারা বলেন, “আমরা এই ফিল্ড ট্রিপ থেকে বিভিন্ন নতুন উদ্ভাবিত ফসল এবং কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পেরেছি, যা আমাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছি। এছাড়াও কৃষির বিভিন্ন নতুন উদ্ভাবন দেখে আমরা কৃষি গবেষণার প্রতি আগ্রহী হয়েছি। আমরা মাননীয় উপাচার্য মহোদয় এবং ফিল্ড ট্রিপের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের শিক্ষামূলক সফর যাতে অব্যাহত থাকে, সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”