Here you will see the details of a News or Event

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত।

কুড়িগ্রাম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুড়িকৃবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা, দেয়ালিকা উন্মোচন, কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণীসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষার্থী বিষয়ক উপদেষ্টা ও কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো: আব্দুল আলীমপ্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম

২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কালো ব্যাজ ধারণ করেন। সকাল :০০ ঘটিকায় অস্থায়ী একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরি র‍্যালি শুরু হয়। র‍্যালিটি প্রশাসনিক ভবন প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একাডেমিক ভবনে এসে শেষ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম সকাল :০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেনপরবর্তীতে কৃষি এবং মৎস্য অনুষদ ডিন, দপ্তর সমূহের প্রধান এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপাচার্য মহোদয় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় নির্মিত একুশের চেতনা ও গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ শীর্ষক দেয়ালিকা উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, "১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। জার্মানির মতো উন্নত দেশগুলো মাতৃভাষাকে অগ্রাধিকার দেয়ার মাধ্যমে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমাদেরও বাংলা ভাষাকে হৃদয়ে ধারণ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।" তিনি ১৯৫২, ১৯৭১ এবং ২০২৪-এর আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো: আব্দুল আলীম বলেন, "ভাষা আন্দোলন কেবল ঢাকা কেন্দ্রিক ছিল না; ১৯৪৮ সাল থেকেই রাজশাহী, রংপুরসহ সারাদেশের ভাষা সৈনিকরা এই আন্দোলন সংগঠিত করেছিলেন।" তিনি বিস্মৃত আঞ্চলিক ভাষা সৈনিকদের ইতিহাস খুঁজে বের করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি গবেষণার আহ্বান জানান।

মৎস্য অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো: ইকতিয়ার উদ্দিন তার বক্তব্যে একুশের চেতনার সাথে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের যোগসূত্র তুলে ধরে গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রক্টর ড. আবু রাশেদ মো: মাহবুবার রহমান, সহকারী প্রভোস্ট রুমানা ইসলাম, আহসানুল হক এবং সহকারী সফ্‌টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুজ্জামান।

অনুষ্ঠান শেষে কবিতা আবৃত্তি ও দেয়ালিকা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরিশেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।