Here you will see the details of a News or Event

স্বপ্ন থেকে সম্ভাবনার পথে: কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবাগতদের বরণ।

কুড়িগ্রাম, ২৫ আগস্ট, ২০২৬: উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদযাপিত হলো ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন বা নবীনবরণ। এ বছর কৃষি ও মৎস্য অনুষদে মোট ৮২ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। সকাল থেকেই নতুন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল পুরো ক্যাম্পাস।

 মঙ্গলবার সকাল ১০:০০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে ৩য় ব্যাচের এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবীনদের ফুল, প্রসপেক্টাস, আইডি কার্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগোযুক্ত খাতা-কলম দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোছাঃ নুর মহল আখতার বানু, ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আলিম এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মো. আসলাম হোসেন নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

 অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মো. আসলাম হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোছাঃ নুর মহল আখতার বানু।

উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোছাঃ নুর মহল আখতার বানু শিক্ষার্থীদের জীবনকে সফল ও অর্থবহ করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি জনকল্যাণ ও মানবসেবার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। দেশের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

 অনুষ্ঠানে উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইউজিসির সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মো. আসলাম হোসেন বলেন, উপাচার্য একজন ডায়নামিক ও কর্মচঞ্চল মানুষ, যিনি শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছ, কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তোমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে। শিক্ষার্থীদের আবাসন ও অ্যাকাডেমিক সংকট নিরসনে ইউজিসির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

 সভাপতির বক্তব্যে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহঃ রাশেদুল ইসলাম বলেন, এটি কেবল বরণ অনুষ্ঠান নয়; খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি অর্জন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য দক্ষ কৃষিবিদ গড়ে তোলার যাত্রার সূচনা। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে নবাগতদের প্রতি আহ্বান জানান। বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রী ও যুবসমাজকে দক্ষ ও কার্যকরী হিসেবে গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান-এর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

 তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, শিক্ষার্থী হিসেবে তোমরা জানো যে, স্কুল ও কলেজ জীবনের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে তোমরা কেবল পাঠ্যবই বা লেকচার থেকে শিখবে না। তোমরা শিখবে ল্যাবরেটরি থেকে, খামার থেকে, মৎস্য খামার পরিদর্শন থেকে, গবেষণামূলক প্রজেক্ট থেকে, শিক্ষকদের কাছ থেকে, বন্ধুদের কাছ থেকে এবং সর্বোপরি নিজেদের ব্যর্থতা ও নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে।

তাই শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের তিনটি মূল গুণ অর্জনের ওপর তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন:

১. জ্ঞান (Knowledge)

২. দক্ষতা (Skills)

৩. চরিত্র (Character)

তিনি আরও বলেন, “নিজেদের কেবল ডিগ্রি-প্রত্যাশী শিক্ষার্থী হিসেবে ভাববে না, বরং ভবিষ্যতের খাদ্য ব্যবস্থার পেশাদার এবং 'সমস্যা সমাধানকারী' হিসেবে বিবেচনা করবে। আমি নিশ্চিত, তোমরা অতীতে যেমন কঠোর পরিশ্রম করেছ, তা যদি অব্যাহত রাখো তবে তোমরা এটি করতে পারবে। আমি তোমাদের পিতামাতাদের অভিনন্দন এবং শ্রদ্ধা জানাতে চাই। কারণ তাঁরা তোমাদের সমর্থন দিয়েছেন, নিজেদের সময় ত্যাগ করেছেন এবং কৃষি ও মৎস্য বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের জন্য এই পর্যন্ত আসতে তোমাদের সঠিক পথ দেখিয়েছেন।

 সব মিলিয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ওরিয়েন্টেশন ছিল শুধু নবাগতদের আনুষ্ঠানিক বরণ নয়; বরং তাদের স্বপ্নকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার একটি প্রত্যয়ী আয়োজন। এখানে যেমন ছিল আনন্দ ও উৎসবের আবহ, তেমনি ছিল দায়িত্ববোধ, জ্ঞানার্জন, দক্ষতা উন্নয়ন ও দেশসেবার দৃঢ় অঙ্গীকার।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নাচ, গান ও নাটক পরিবেশন করেন। শুভকামনা ও এক আনন্দঘন উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই নবীনবরণ আয়োজন।